মানুষের জন্য অচিকিৎস্য রোগ আর রহস্যময় নয়। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এমন ওষুধ আবিষ্কার করতে সক্ষম যা আগে বিজ্ঞানীরা কল্পনাও করতে পারতেন না।
AI নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের পথে
বিশ্বজুড়ে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণ প্রতিদিন নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। প্রতি বছর প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ মারা যায় এমন রোগে যা আগে সহজেই চিকিৎসা করা যেত।
MIT-এর জেমস কলিন্সের দল AI ব্যবহার করে ইতিমধ্যেই দুটি নতুন যৌগ আবিষ্কার করেছে, যা MRSA এবং গোনোরিয়ার মতো প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াকে মারতে সক্ষম।
AI কিভাবে কাজ করছে:
- বিশাল রাসায়নিক যৌগের ডেটাবেস বিশ্লেষণ।
- নতুন যৌগ তৈরি করা, যা ব্যাকটেরিয়ার জন্য কার্যকর।
- পরীক্ষাগারে তৈরি করা যৌগগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন।
এই প্রক্রিয়ায় তৈরি ২৪টি যৌগের মধ্যে দুটি অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
Parkinson’s রোগের জন্য AI-র নতুন সম্ভাবনা
Parkinson’s disease এখনো সম্পূর্ণভাবে নিরাময়যোগ্য নয়। কেমব্রিজের মিশেল ভেনড্রুসকোলো AI ব্যবহার করে এমন যৌগ খুঁজছেন যা মস্তিষ্কের লিউই বডি প্রোটিন জমাটকে লক্ষ্য করে, যা Parkinson’s রোগের প্রাথমিক ধাপ থামাতে পারে।
AI-এর সুবিধা:
- প্রচলিত পদ্ধতিতে ছয় মাসে ১ মিলিয়ন যৌগ পরীক্ষা করা যেত, এখন AI দিয়ে বিলিয়ন যৌগ কয়েক দিনে বিশ্লেষণ সম্ভব।
- নতুন যৌগগুলো আগের অ্যান্টিবায়োটিকের মতো নয়, নতুন ধরণের চিকিৎসার সম্ভাবনা তৈরি করে।
পুরনো ওষুধের নতুন জীবন
সব রোগের চিকিৎসার জন্য নতুন ওষুধ আবিষ্কার করতে হয় না। কিছু ক্ষেত্রে, পুরনো ওষুধ পুনর্ব্যবহার (Drug Repurposing) করা হয়।
ডেভিড ফাজগেনবাম নিজের Castleman রোগের জন্য Sirolimus ব্যবহার করে সফল হন। বর্তমানে তিনি Every Cure প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা AI ব্যবহার করে হাজার হাজার ওষুধ এবং রোগ মিলিয়ে সম্ভাব্য চিকিৎসা পরীক্ষা করে।
AI-র সাহায্যে এটি সম্ভব হচ্ছে:
- বিরল রোগের চিকিৎসা দ্রুত খুঁজে পাওয়া।
- নিরাপদ ও পরিচিত ওষুধ পুনর্ব্যবহার।
- কম খরচে এবং কম সময়ে সম্ভাব্য থেরাপি সনাক্ত করা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাচ্ছে।
AI নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার, Parkinson’s এবং বিরল রোগের চিকিৎসা দ্রুত করতে সাহায্য করছে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আরও অনেক রোগের চিকিৎসার পথ খুলে দেবে।
সুত্রঃ বিবিসি
